মঙ্গলবার, ২৩ Jun ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন
ই-কণ্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেওয়া বিচারিক আদালতের সাজা কেন বাড়ানো হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বুধবার (২৮ মার্চ) দুদকের আবেদনের (ফৌজদারি রিভিশন) প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি খালেদা জিয়া এবং ঢাকার জেলা প্রশাসককে এ আদেশ দেন।
দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এ তথ্য জানান। আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের আবেদনের ওপর শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
এর আগে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে গত ২৫ মার্চ রিভিশন আবেদন দায়ের করে দুদক। ওই সময় দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেছিলেন, ‘মাত্র একটি যুক্তিতে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে চেয়ে দুদক রিভিশন আবেদন দায়ের করেছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া মূল আসামী হওয়া সত্ত্বেও তার সাজা ছিল সহযোগী আসামীদের থেকে কম। তাই বিচারিক আদালতের রায়ে দুদক সংক্ষুব্ধ হয়ে তার সাজাবৃদ্ধি চেয়ে এ আবেদন করেছে।’
খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা দুদকের এই আবেদনকে সরকারের হস্তক্ষেপ বলে মনে করছে। বিএনপির আইনজীবীদের এমন ধারণার জবাবে খুরশীদ আলম খান বলেছেন, ‘অনেকে বলছেন সরকারের মদতপুষ্ট হয়ে দুদক এ আবেদন (রিভিশন) করেছে, এটা মোটেও ঠিক না। যখন আপিল বিভাগে জামিনের শুনানি হয়, তখনই আমরা আদালতকে বলেছি- জাজমেন্টের (বিচারিক আদালতের রায়ের) এই সাজায় আমরা সন্তুষ্ট না। এটা অপর্যাপ্ত সাজা। তখন আদালত আমাদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমরা কিছু করেছি (সাজার বিরুদ্ধে দুদকের রিভিশন) কি না। জবাবে আমরা আদালতকে বলেছিলাম, বিষয়টি দুদক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। দুদক পুরো জাজমেন্ট পর্যবেক্ষণ করে দুদক সিদ্ধান্ত নেবে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আবেদনটি করি।’
প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত অস্থায়ী পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই তাকে ওই দিন বিকালে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন সেখানেই আছেন।